২০ জুন, ২০২১ , রবিবার

গুচ্ছ কবিতা
সুদীপ্ত ভট্টাচার্য্য
এখানে শব্দের ভ্রুণ নির্ণয় হয় না


ঘরের ভিতর মশারী টাঙালে
মশারী ও একটা ঘর হয়ে যায়
এবার ঢুকে পড়লাম তার ভিতরে
টানটান হয়ে শোবার পর বুঝলাম
আমিও ঘর হয়ে গেছি কখন
ভিতরে হট্টগোলের আওয়াজ পাচ্ছি
কখনও কান্না কখনও হাসির শব্দে
দেখে ফেলি শশ্মান আর আঁতুড়ঘর পাশাপাশি


দরজা বন্ধ রাখছি
আপাতত নজরদারিতে আছে শয়নকক্ষ
এখানেই ঘরের ভিতরে ঘর তার ভিতরে ঘর তারও ভিতরে…
গোপন কোন প্রবেশ পথ আছে কিনা জানতে
ছাদ জুড়ে তৈরি করেছি গবেষণাগার
বুঝে নিতে চাই অনুপ্রবেশ নাকি অঙ্গজ জনন
শব্দের বংশতালিকার আদমসুমারীতে খুঁজে দেখে নিতে চাই জরায়ুর অবস্থান…


বেরোবার বন্ধ পথের চৌকাঠে
বুদবুদের মতো ফেটে যায় শব্দের শরীর
যেভাবে উড়ে যায় শিমুলের বীজ মৃত বসন্ত দিনে
সেভাবে ঘর ছেড়ে বেরোতে পারলে মহাপৃথিবীর অসংখ্য ঘর ব্রহ্মের গর্ভ হয়ে যেতো
এই সুপ্ত যৌনযাপনে শব্দেরা ধোঁয়াশা ধ্রুবক
অবশ্য গণিত মেলাতে চাইলে
কয়েদঘর জরায়ু হতে পারে অথবা সবীজ লিঙ্গ…


ছাদ জুড়ে দাপাদাপিতে ফটক বন্ধ রাখা দায়
খাঁচার ভিতর ফুট ফুট করে বাড়ে কথার মড়ক
আর ঘরের এককোণে জ্বলে ওঠা চিতা থেকে বের হয়ে চাকায় চড়ে বসে কথার লার্ভারা
এসব কথায় ঋতুর ঝাঁঝ নেই কোন
আছে কেবল নিভৃত আবেগের সম্ভোগ অথবা ধর্ষণ
উদ্ভাসের কোলাহল আর হাহাকারে হৃদযোনি ফেটে ফেটে যায়
শব্দের জনসংখ্যার চাপে চাপা পড়ে যায় অশ্রুর স্খলিত বিন্দু…..


জিভ সচেতন হয়ে গেলে
মৃত্যু বেড়ে যায় নাকি জন্ম
এই দোটানায় যত আন্তরিক বিস্ফোরণ
সেখানেই খুঁজে পেতে চাই শব্দ বিনির্মাণের ভ্রুণ

এইসব অবান্তর প্রান্তরে যত মানস সরোবর
তার প্রান্তরেখা বরাবর হেঁটে যায় স্বরবর্ণেরা
আর টুপটাপ ঝাঁপ দেয় গহন গর্ভে
একে একে সারি সারি ঢেউ ছুঁতে চায় কোমল ওষ্ঠ
জিভ সচেতন হয়ে গেলে
জন্ম-মৃত্যুর আদমসুমারীতে ভ্রুণ খুঁজে পায় না চোখের ভিতরের চোখেরা
কেবল চতুর্মুখ ব্রহ্মা এক একটি হর্মকক্ষ তৈরী করে
মিথ্যার…..।

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
সাম্প্রতিক পোষ্ট
বর্ষা , উমামাসি আর প্রেমের গপ্পো- হারিয়ে যাওয়া গানের খাতা- যশোধরা রায়চৌধুরী

জল ঠেলতে ঠেলতে দিন কেটে যায় তবু… রোমান্স মরে গেলেও, ওই কাদা জল
ঘেঁটেই চলি তারপর। বাজারে দোকানে যাওয়া… ফিরে আসা হাঁটুজলে। এসে পায়ে
দেখি কার চিঠি লেপটে আছে।

Read More »