৬ জুন, ২০২১ , রবিবার

কবিতা
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
স্মরণপথে কুয়াশা

ভোরবেলা ঘুম থেকে তুলে

দিগন্তের দিকে আঙুল তুলে বাবা বলেছিল, আমাদের মা

দেখতাম সন্ধেবেলা নীড়ে ফেরা পাখির বিশ্বাসের মতো

অনড় আলো গম ক্ষেতের উজ্জ্বলতা নিয়ে

বাবার মুখে খেলা করছে


অথচ একটু বেলা হতেই

অনাথ ইতিহাসের কিছু বেপরোয়া বিক্ষুব্ধ অক্ষর

আমাদের জানিয়ে দিচ্ছিল গাছের নীচের স্বজন ছায়া

আর কিছুক্ষণ পরেই যাদের সরিয়ে নেওয়া হবে

নদীকে আমরা যারা এখনও চিনতে পারি নি

তাদের দিকেও আঙুল তুলেছিল অক্ষরেরা


আমরা বুঝতে পারছিলাম বসতি অঞ্চলের

একমুখী প্রবেশ পথের কোলাহলকে ছড়িয়ে দিতে পারিনি

তাই ভাতের অভাব নিয়ে সবাই যখন কলহে মত্ত

তখন আমাদের মাথার ওপর থেকে নক্ষত্র চুরি হয়ে যাচ্ছিল

আমরা ভুলে যাচ্ছিলাম মৃত আত্মীয়দের নাম

যারা নিয়ম করে জানলা খুলতে শিখিয়েছিল

রক্তমাংসের মধ্যে আদর্শ আর বিশ্বাসকে ধরে রাখার

উপযোগী মেরুদণ্ড ভাঙার আওয়াজ কানে আসছিল

কুয়াশায় ডুবে যাচ্ছিল তাদের মুখও

যারা আমাদের পৃথিবীতে এনেছিল


আমরা হাঁটতে হাঁটতে মুহূর্তের জন্যে চোখ বুজলে

অথবা ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করে ঝড় আসার মতো

স্বপ্নের গাঢ় রেখা চোখে বুলিয়ে দিলে

দেখতাম রাশি রাশি বরফের স্তুপ


আমাদের স্মরণপথে কোনো নাম নেই

শুধু চাপচাপ কুয়াশা।

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
সাম্প্রতিক পোষ্ট