নববর্ষ সংখ্যা, ৪ বৈশাখ, ১৪২৮, রবিবার

গুচ্ছ কবিতা
মহম্মদ সামিম
অভিমান

চোখে ঘনিয়ে আসে কালবৈশাখী ঝড়
উড়ে যায় যত বন্দি প্রজাপতি
বেলা শেষে, সব আয়োজন শেষে
মুক্ত ক্যানভাস হয়ে ওঠে আকাশ
ছায়াময় এই পথঘাট, সবুজ মাঠের বিষাদ
তখন তোমার রঙে একাত্ম বিলীন,
ধুয়ে যায় গোধূলির আলোয় ঢাকা বৃষ্টিদিন
জীবনের কাছে জমে থাকা মুহূর্তের ঋণ।

স্পর্শ

মাটি জানে শিকড়ের যত বেদনা
নদীজন্মের গভীরে বয়ে যাওয়া আঁধার
পৃথিবীর উপর বিছিয়ে রাখে জীবন
আলোছায়া দিয়ে তৈরী তোমার বৈভব
ছুঁয়ে থাকে এই আলো, এই উপশম।
শান্ত দুপুর, ঢেউ ভেঙে দুটি হাঁস ভেসে যায়
অনেক দূরে অন্য পুকুরে তখন, দুটি গাছ
একে অপরকে জড়িয়ে দুলে যায় দুলে যায়।

প্রতীক্ষা

পুনর্জন্ম এক ডাকবাক্স —
শূন্যে ভাসমান, জীবনের সমস্ত
না-লেখা চিঠির অন্তিম আশ্রয়
অপার অপেক্ষা মানে মেঘ-বারান্দা
প্রতিবার ডুবে যাওয়ার আগে
চোখের কোণে ধরে রাখা কান্না,
ধুলোপথে লাল সাইকেল চালিয়ে
আনন্দ পিওন টোকা দেয় দরজায়
তুমি দৌড়ে গেলে, লেখা হয় কবিতা।

নূপুর

ঝুমঝুম শব্দে মুখরিত হৃদয়
স্পন্দন দিয়ে লিখি জীবন
সব চলে যাওয়া বিদায় নয়,
মুঠো তো ধরে রাখার দীক্ষক
সামান্য আয়ুর আগে সবকিছুই বুদ্বুদ
পায়ে পায়ে এগিয়ে গেছ তুমি
রেখে গেছ সম্পর্ক নামক ব্যথার চাবি।

কমলালেবু

স্মৃতিরা গড়িয়ে নামে গাল বেয়ে
মায়ার আঙুল ধরে হাঁটে সময়
নীরবতাও এক ঐশ্বরিক আগুন
পুড়িয়ে দেয় আদিম মনের প্রশ্রয়।
এই পৃথিবী কমলালেবুর মতোই
সূর্যের আদর মেখে কখনও কখনও
শীতের সকালে মেলে ধরে নিজেকে
মুমূর্ষের আঙুল ধরে বেঁচে ওঠে আবার।

চিহ্ন

কল্পনার জালে জড়িয়ে গেছে ঘুম
সন্ধ্যাতারা হয়ে ফুটে ওঠে জীবন
যেকোনও প্রাচীন সেতুর কাছেই
মাথা নত করি আমি, বিনয়াবনত
প্রান্তর জুড়ে বোনা হয় স্তব্ধতার বীজ
ঘরে ফিরে আসে আহত রত্নাকর
পাপের হিসেব একলা বয়ে বেড়ায়
দাগটুকু রয়ে যায় ঠোঁটের কোণায়।

সাম্প্রতিক পোষ্ট