বারীন চক্রবর্তী


প্রতিবেশী

নন্টে: কাকিমা, ও কাকিমা, ছ’টা আলু হবে? মা চেয়ে পাঠাল!

কাকিমা: এইমাত্র তোর বাবাকে তো দেখলুম হাতে থলে নিয়ে বাজারে যেতে! আলু কিনে আনতে পারল না?

নন্টে: আলুর যে খুব দাম গো! বলল, বাজার আগুন! কোন জিনিসে হাত লাগান যাচ্ছে না!

কাকিমা: তা শুনি, তোর বাবা বাজার থেকে কি কি নিয়ে এল?

নন্টে: বড় দেখে একটা কাতলা মাছ নিয়ে এসেছে! বলল, এক কিলো ছ’শো!

কাকিমা: তাই বুঝি! অত্তো বড় কাতলা মাছ কেনার সময় তোর বাবার পকেটে পয়সা থাকে, আলু কেনার সময় পয়সা ফুরিয়ে যায়?

নন্টে: মা সবসময় বলে, যে জিনিস খেতে ইচ্ছে করবে, পয়সা দিয়ে কেনা উচিত!

কাকিমা: এ কিরকম কথা রে নন্টে? যে জিনিস খেতে ইচ্ছে করবে পয়সা দিয়ে কেনা উচিত, রান্না করার আগে বাকি জিনিস পাড়ায় ঘুরে ঘুরে যোগাড় করবি?

নন্টে: সেইজন্যই তো আমার মা মিনুবৌদির বাড়িতে এক কাপ সরষের তেল আনতে গেল!

কাকিমা: আর তোর বাবা?

নন্টে: মদন জ্যাঠার বাড়িতে টমেটো পেঁয়াজ লঙ্কা আনতে গেছে!

কাকিমা: ওনার বাড়িতে যদি ওগুলো না থাকে?

নন্টে: বাবা গতকাল রাতে টর্চ জ্বালিয়ে দেখে এসেছে, বাগানে কত্তো টমেটো, পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা হয়েছে!

কাকিমা: এক কাজ কর ঐ মাছ তোর মাকে বল আমার বাড়িতে দিয়ে যেতে, আমিই রান্না করে তোদের খাইয়ে দেব!

নন্টে: মা যেভাবে রান্না করে তুমি কি তা পারবে?

কাকিমা: মানে?

নন্টে: এই যেমন আমি আর মা মাছের ঝোলে আলু পছন্দ করি!

কাকিমা: আর তোর বাবা?

নন্টে: আলু ছাড়া মাছের ঝোল!

কাকিমা: তুই আর তোর মা দু’জনে মিলে ছ-ছ’টা আলু খাবি?

নন্টে: না গো কাকিমা! দুপুরে মাছের সাথে ঝোল দিয়ে ভাত মেখে খাব! রাতে শুধু মাছের ঝোল আর আলু দিয়ে রুটি খাব!

কাকিমা: তোর বাবা?

নন্টে: মাছের তেল দিয়ে মা বড়া বানাবে! গরম গরম ভাতের সাথে মাছের তেল মেখে খাবে! সঙ্গে থাকবে মদন জ্যাঠার কাঁচা লঙ্কা আর সঙ্গে গোল গোল পেঁয়াজ!

কাকিমা: ঠিক আছে! ঠিক আছে! এই নে আলু, আর আমার সামনে থেকে দূর হ!

নন্টে: তোমরা কত ভালো কাকিমা! মা বাবা এইজন্য বেপাড়ায় গিয়ে বলতে থাকে, তোমরা কত ভালো মানুষ!

কাকিমা: কি বলে শুনি?

নন্টে: বলে, জিনিসপত্রের যা দাম! আমার পাড়ার প্রতিবেশী ভালো বলেই না আমরা খেয়ে পড়ে বেঁচে আছি!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *