চন্দ্রনাথ শেঠ


চাঁদ ও তরমুজ

ঋতবান নদী-চড়াটিকে ছুঁয়ে  থাকে একা চাঁদ।
সাদা তরমুজ গড়ায় অঙ্গ জোড়া বালি
তারও রক্ত লাল হয় ক্রমে

                   গড়াতে ইচ্ছে হলে বালি মাখে
চাঁদও.. খুব। চতুর্থ দিবসে ঋতুস্নান সেরে…
বিভাজিকা রক্তজবা তারও

গড়াতে গড়াতে কাছাকাছি হয়–জড়াজড়ি দুটি
গোল গ্রহ একে অপরের


রফা

সমুদ্রস্মৃতিই ; জলকামান লিখব না–সকালেই রফা হল। গোধূলি গড়াতেই : সব গলা অবধি
রক্তপলাশ গড়িয়ে নামছে যমুনায়.. কদম্ব-হোলি লিখি।রহস্যগহ্বর..লিখব না হাসপাতাল স্বদেশের। ‘এটা সত্য’ লিখি। যত মিথ্যেই বলি…

লিখব না আবাগিজন্মের কথা-আজই
তো, ছোরায় গোধূলি  হল লেখা : হিন্দু লিখব না–‘মুসলিম’ ?  হিম পাতা চলন্তিকায় মিলেমিশে ছিল দুটি বেশ

অথচ পূর্ণিমা নামতেই স্বদ্যাশের  তাড়া খেয়ে পিলপিল ট্যারচা চাঁদের টর্চ ঝাঁপ দেয় তামাদি কুয়ায়। চড়া রসুনের গন্ধে আম্মা নয়–মা লিখ
মনে পড়ে যাওয়া, আমিষরাত্রির সরীসৃপ দেয় হামা


আমরা

রাত্রির মৃত্যুতে ধীর পায়ে নেমে আসা ভোর –
হোক তোর

মন খারাপের মিসিং লিঙ্ক ধরে পৌঁছে যাও সুবচনী
সত্যের দেশে। সেখানে বন্দিশ মানে: উড়ে যাওয়া
পাখি, পরি সাজা নদী, শোলাগাছ গা ভাসায়

কে কার বিরাগতিথি মনে রাখে বলো.. ছলোচ্ছল অশ্রুতে ভাসে কবেকার বিষণ্ণ তরবারি
নেমে আসে ধীর পায়ে শূন্য সেই খাপ

লক্ষ্মণরেখা মুছে গেছে। ঊরুসন্ধির ওম মেখে
পড়ে
বিষণ্ণ অনুতাপ… 
 
প্রতি রাত্রিতে জেগে ওঠা স্বপ্নের ভার-
পিঠে নিই      
সে একান্ত  আমার


অলাতচক্র অধিত্যকায়

হুইস্ লারস্ এ্যাসোসিয়েশন তখন থেকে গেয়ে শোনাচ্ছে নিশ্চয়  তোমায়: আমরা করব জয়…

আহা, দোয়েল –আহা বুলবুল প্রায় পঞ্চাশ জনের
এই বৃন্দগান পাহাড়তলির  আশ্রয় থেকে  পৌঁছে দিচ্ছে তোমায় এই মরা
পৃথিবীতেই প্রতিনিয়ত     

ওই তো, তোমার শহর আরও একটা মড়ুঞ্চে  কবিতার
জন্ম দিল

ওই তো গ্রীবা তুলে অপেক্ষায় বীজাণুরা। বয়ে আনল ঠোঁটে পিঁপড়েশ্রমিক আরও প্রত্যয়ী এক ছোঁয়াচে দানা

ওই তো। অতিমারি-অধিত্যকা থেকে ছিটকে আসা
রক্ত, প্রজাপতির ডানায় ডানায়।  উড়ে আসছে ওরা, ওই তো ভর করে

সঞ্জীবনী  ফুলের জলসায়…


ব্রাত্যফুল  

ঝরে গেছে ভাঁটফুল               সাদা পাপড়িরা।                                              
 -এখন বৃন্তে লেগে         ঘেঁটুফল-
ফুটে আছে সিপিয়া শরম                কার গাল…
টুসি দিলে ঝরে পড়ে জল নয়নের

আঙুলে রয়েছে লেগে              চারাগাছ স্মৃতি
বাগানের মোলায়েম মাটি
তর্জনীর ডাকে নামে                 আকাশের তারা

                -ইতরের ঠোঁটে ঝোলে: “আমার প্রপার্টি”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *