বীথি ব্রহ্ম- মধুমাস বসন্তকাল

ঘরে ক্যানভাসটা স্ট্যান্ডে রয়েছে। নারীমূর্তিটা প্রকৃতির পটভুমিতে আঁকা হচ্ছিল। আটকে গেল অনুরূপ। আর্ট কলেজের স্যারের কথা মতো জীবন্ত প্রাণীটিকে দেখতে চলল।

বাগান খুলেই দেখল, প্রকৃতি অকৃপণ হাতে যেন ছবি আঁকছে। অনুরূপ জীবন্ত বসন্তকুমারীর খোঁজে  ঘরে ঢোকে।

-“আয় অনু, কেমন চলছে তোর ছবি আঁকা”? চৌধুরী কাকা জিজ্ঞেস করেন। ওর টুকটাক কথায় উত্তর দিচ্ছে অনু আর মন খুঁজে বেরাচ্ছে রণিতাকে। সুনীতেরও দেখা নেই।

-“বাবা”। ডাক দিতে দিতে রুনু হাজির, “মা তোমাকে সকালের সবুজ পাণীয় খেতে ডাকছে”। চৌধুরী কাকা মুখ ব্যাজার করে উঠে গেলেন। দু’জনের হাসি বিনিময় হল। অনু জানতে চাইল, “সবুজ পাণীয়টা কী”?

রুনু মুচকি হেসে বলে, “বসন্তের সকালে আমাদের সবুজ পাণীয় চলে। তোমার চলবে নাকি”?

অনু মনে মনে ভাবে, তুমি যা দেবে তাই পান করবো। নিশ্চয়ই বিশেষ কিছু।

সুনীত কেও বাগানে পান করতে দেখা গেল।

রনীতা ডেকে নিল, “অনেকদিন বাদে এলে এখানে, বসন্তের গান শুনবে না”?     -“বাবা! এ যে মেঘ না চাইতেই জল”। হেসে ঘাড় নাড়ে অনু। ওর ঘরে ঢুকতেই একগ্লাস সবুজ পানীয় চলে এলো। রণিতা হারমোনিয়াম নিয়ে ওর মুখোমুখি বসে। ও বলে, “আজি এ বসন্তে গানটা শুরু  করি, তুমি ওটা খেতে খেতে শোনো”।

মধুময় পরিবেশ। অনু ভাবে, “এইটাই তো ভোর থেকে হাতড়ে বেড়াচ্ছিলাম”।

মোহময় গানের সুরে ডুবতে ডুবতে অনুরূপ গ্লাসে এক চুমুক দিল।

মিঠে হেসে রুনু বলে, “নিমপাতা তো বসন্তেরই  জন্য! কী বলো অনুদা? আশা করি উপভোগ করছ”!

One thought on “বীথি ব্রহ্ম- মধুমাস বসন্তকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *