শুভ্রাশ্রী মাইতি – অন্নপূর্ণা ও ঈশ্বরী পাটনী

-আজও শুধু ওইটুকু ভাত আর আলুভাতে। খাব না আমি যাও।

রেগে থালাটা শব্দ করে ঠেলে দিল হারু।

-ওইটুকু ভাতে কারও পেট ভরে?আমার ক্ষিদে পায় না বুঝি?

এবার কেঁদে ফেলে হারু শব্দ করে।

কোন কথা না বলে মালতী উঠে গেল উনুনের কাছে। চোখে জল— ধোঁয়ায় কী না কে জানে!

প্রথমে রাগ হলেও পরক্ষণেই ভারি কষ্ট হল হারুর মার জন্য। ঠোঙা বিক্রির টাকায় আর কি-ই বা হয়!  এখন তো মার মেসে রান্না করার কাজটাও বন্ধ করোনার জেরে। মেসই তো বন্ধ।

কেন যে বাবা এখনও বাড়ী ফিরে এল না কে জানে। লকডাউনের মাস দু’য়েক আগে কাজে গেল মহারাষ্ট্রে, আজ আটমাস হয়ে গেল বাবা বাড়ি আসেনি। তিনমাস হল কোন টাকা পাঠানো তো দূরের কথা, ফোনেও কোন খবর নেই মানুষটার। ফোন করলেই বলছে সুইচড অফ। জলজ্যান্ত মানুষটা যেন উবে গেল একেবারে।

তাকে সাথে নিয়ে মা তো কতবার ছুটল থানায় বাবার সন্ধানে। পুলিশের এক কথা— এখন কে যে কোথায় বলা খুব মুশকিল। কত লোক যে নিরুদ্দেশ তার হিসেব নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে বলা যাবে না কিছু।

কত পরিযায়ী শ্রমিক তো ফিরল বাড়িতে— শুধু বাবা ছাড়া। বাবার ওপর প্রচন্ড অভিমানে গলার কাছে কান্না দলা পাকাতে থাকে হারুর। মা যেন আজকাল কেমন পাথর হয়ে গেছে— যন্ত্রের মতো শুধু কাজ করে যায়।

ছুটে গিয়ে মার কোলে মুখ লুকায় হারু। তাকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে ওঠে মা। উনুনের আগুনের দিকে তাকিয়ে কান্নাভেজা গলায় বলে ওঠে, আমার হারুটার দুটো ডালভাতের জোগান তুমি রেখো ঠাকুর— এইটুকু শুধু চাওয়া।

অবাক হয়ে হারু দেখে মার মুখটা যেন ধীরে ধীরে তার কবিতার বইতে পড়া সেই কবেকার ঈশ্বরী পাটনীর মুখ হয়ে যাচ্ছে আর উনুনের আগুনটা দেবী অন্নপূর্ণা।

One thought on “শুভ্রাশ্রী মাইতি – অন্নপূর্ণা ও ঈশ্বরী পাটনী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *