মিমি সিদ্দিকী – জিওস্মিন

স্রেফ একটিমাত্র উত্তরের জন্য এবারেও মনে হয় চাকরিটা হাতছাড়া হল। এই বাজারে আধনম্বরও তো কমকথা নয়। বড় জেঠুর কথাটা এখন বারবার মনে পড়ছে–‘হাতে টাকা থাকলে গোটা পৃথিবীটা কেনা যায় বুঝেছ ছোকরা?’

এসব ভাবতে ভাবতে কপালের ঘাম মুছে মেঘ একটা গাছের গায়ে হেলান দিয়ে বসল। গলার কাছে সব কষ্টগুলো কেমন দলা পাকিয়ে আসছে। এমন সময় পিছন থেকে একটা চেনা হাত কাঁধের উপর আলতোভাবে এসে পড়ল।

মেঘ না তাকিয়ে বলল—‘কখন এলি?’

শ্রাবণী একগাল হেসে বলল–‘মেসেজ সিন করছিস না দেখেই বুঝেছি পরীক্ষা ভালো হয়নি।’ মেঘ হতাশ হয়ে অল্প হেসে বলল–‘কী আর উত্তর দিতাম!’ শ্রাবণী মেঘের চুল গুলো নেড়ে দিয়ে বলল–‘ধুর বোকা পরীক্ষার কথা কে জানতে চেয়েছে! ‘এই বলে চটপট ব্যাগ থেকে ঘননীল প্রচ্ছদের একটা পত্রিকা বের করে বলল —’আমি তো এটার জন্য মেসেজ করেছিলাম।’

শ্রাবণ সংখ্যা ‘আকাশ বলো’ পত্রিকায় মেঘের লেখাগুলো ঠিক যেন বৃষ্টির মতো ঝরে যাচ্ছে। মেঘের চোখদুটো ছলছল করে উঠল। শ্রাবণী কিছু বললনা, শুধু মেঘের হাতটা মুঠো করে ধরে রইল।

একটু পরেই বাইরের আকাশ থেকে সমস্ত মেঘ উজাড় করে মুষলধারে বৃষ্টি নামল।ওরা ছুটতে ছুটতে একটা টিনের শেড দেওয়া বেঞ্চে গিয়ে আশ্রয় নিল।

মেঘ শ্রাবণীর কোলে মাথা রেখে শুয়ে শুয়ে ভাবছে পরীক্ষায় কোন উত্তরটা যেন গুলিয়ে ফেলেছিলাম? জিওস্মিনের অর্থ তাই না! সে তো পৃথিবীর গন্ধ। এ অর্থ এ জীবনে আর কোনোদিন ভোলা যাবে না। শ্রাবণীর হাতের ছোঁয়ায় মেঘের চোখে নেমে আসছে শান্তির ছায়া। আর মাতাল করা ভেজামাটির গন্ধের স্রোতে ভেসে যাচ্ছে ওদের চারপাশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *