অনিন্দ্য পাল – দোকানদার

তোর্ষা আসছে। ফ্ল্যাট এর জানালা গুলো সব খুলে দিল আংশিক। কোন ঝামেলায় জড়াতে চায় না। রিমি অফিসে, বৃষ্টি স্কুলে। তোর্ষা এই সময়টাই চেয়েছে, প্রিয় কবির সঙ্গে দেখা করার জন্য। আংশিকের কোন কথা শোনেনি।

সোফায় বসেছে তোর্ষা। আংশিক উল্টো দিকে, দূরত্ব বজায় রেখে উল্টে পাল্টে দেখছে কবিতাগুলো। একটা বই এর পৃষ্ঠা। সম্ভবত কোন সংকলন থেকে নিজের অংশটা আলাদা করে নিয়েছে তোর্ষা। গড়পড়তা লেখা। আনাচে কানাচে এখন কবি, সবাই যেমন লেখে, এগুলোও তেমনই। কিন্তু বলতে হবে তো, “বাহ্ চমৎকার, খুব ভালো লিখেছ”। সেটাই বলতে যাচ্ছিল আংশিক, চোখ তুলে তোর্ষার দিকে তাকিয়ে গা গুলিয়ে উঠলো তার। শরীর নিয়ে অনেক লিখেছে, এখন আর এরকম আদেখলাপনা সহ্য হয় না। এরা সবাই একই রাস্তায় হাঁটে। এদের সমস্ত মেধা ক্লিভেজে। যত সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠে, শাড়ির আঁচল তত নিচে নেমে আসে।

আংশিকের চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে। সোজা হয়ে তোর্ষার মিটি মিটি হাসি মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,

” আমি ভেবেছিলাম একজন নতুন কবি এসেছেন, কিন্তু এক দোকানদার ভুল করে আমার ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়েছে। মাফ করবেন, আমি বাজার করতে পছন্দ করি না। “

-স্যার আমার লেখা গুলো কেমন?

চমকে ওঠে আংশিক। কী সব হাবিজাবি ভাবছিল এতক্ষণ। সামনের দিকে তাকিয়ে চোখ জুড়িয়ে যায় তার। উল্টো দিকে বসে আছে সালোয়ার পরা অসামান্য সুন্দরী বছর বাইশের তোর্ষা। ঘড়িটা আড় চোখে দেখলো আংশিক, এগারোটা কুড়ি, হাতে এখন তিন ঘন্টা সময়। চনমনে খিদেয় মেজাজটা ফুরফুরে হয়ে গেল আংশিকের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *