সুব্রত গুহ – অধর্ম


আষাঢ়ের ঘোর বর্ষা নেমেছিল সেদিন। সন্ধ্যায় যেন রাত নেমে এলো। বৃষ্টির সাথে আকাশে আলোর ঝলক। সন্ধ্যাপূজা শেষ করে বৃদ্ধ পূজারী কালীনারায়ণ চক্রবর্তী মন্দির থেকে বেরিয়েই দেখলেন প্রাচীন মন্দিরের ভাঙা ছাউনির নীচে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পূজারী বললেন, এখানে দাঁড়িয়ে ভিজবে কেন, মন্দিরের ভিতরে এসো। মেয়েটি বলল, না না। এখানেই দাঁড়াই।
-কোথায় থাকো তুমি?
-শিবরামপুরে।
-তবে তো আমার বাড়ির কাছে। বৃষ্টি একটু ধরলে আমি তোমায় পৌঁছে দেবো। তোমার নামটি কী।
মেয়েটি কিছুক্ষণ চুপকরে থেকে বলল, মেহের ইসলাম।
-ও। তাই তুমি মন্দিরে… আমি বলছি এসো, ভিতরে ভিজো না।
বাইরে বৃষ্টির শেষ ছিলো না। তিন চারটে ছেলে ছাউনির নীচে সিগারেট ধরাচ্ছিল। তাদের মধ্যে একজন মেহেরকে চিনতো। সেই বললো, তুই মন্দিরে ঢুকেছিস কেন। পূজারী বললেন, তুমি যা করছ তাই করো। এসব নিয়ে ভাবতে হবে না।
কিন্তু এখানেই ব্যাপারটা শেষ হলো না। কিছুক্ষণের মধ্যেই ষণ্ডামার্কা কয়েকটি লোক এসে বলল, কী ব্যপার ঠাকুরমশাই। একটা মুসলমানকে আপনি কোন আক্কেলে মন্দিরে ঢোকালেন?
-তোমাদের শিক্ষা কি ধর্ম বিচার করে মানুষকে চিনতে বলে?
-ওসব আপনাকে বলতে যাবো কেন! আপনি অন্যায় করেছেন। কাল মন্দির কমিটির কাছে জবাব দেবেন।
এইবার ঠাকুরমশাই  তাঁর ছাতাটা তুলে মেহেরকে বললেন, এসো মা, আমরা এবার যাবো।
মেহের ভীত, জড়সড়। মন্দিরের দরজা বন্ধ করে ঠাকুরমশাই চাবিটা ওদের একজনের হাতে দিয়ে বললেন, কমিটিকে দিয়ে দিও। বোল অন্য পূজারী যেন খুঁজে নেয় ।
আপনি আর পুজো করবেন না?
ঠাকুরমশাই একটু হেসে বললেন, আমি পূজা করতাম মানুষের কল্যানে। তার প্রয়োজন আর নেই।
 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *