সুজিত রেজ- শিক্ষা


উৎসব-বাড়িতে পর্যাপ্ত আলোর প্রয়োজন। তখন মামার বাড়িতে বিদ্যুতের আলো পৌঁছায়নি। আট-দশটা হ্যাচাক জ্বালা হত। আমাদের সঙ্গে নিয়ে দাদু হ্যাচাক জ্বালতেন। লখাই মামা থাকত সঙ্গে। শতকরা নিরানব্বই শতাংশ কাজ মামাই করত। কিন্তু আমাদের গোল করে বসতে হত হ্যাচাকগুলি ঘিরে। দাদু বলতেন, ভালো করে দেখো, কীভাবে জ্বালাতে হয়। তেল ভরো। হাওয়া ভরো। এসব তোমরা পারবে।

তেল ভরতে গিয়ে বাইরে পড়ে যেত অনেকখানি। উৎকট গন্ধ উঠত। দাদু কোনদিন বিরক্তি প্রকাশ করেননি। বরং বলতেন, তেল পড়া ও তেল পোড়ার গন্ধ ভালো লাগে। হাওয়া দেওয়ায় আমার উৎসাহ ছিল একটু বেশি। আগ বাড়িয়ে সেটাই করতাম। নজেলটার হাতল ধরে ভেতরে ঢোকানো ও বের করা। শেষ দিকে খুব কষ্ট হত। শক্তি লাগত বেশি। বাহাদুরি করে জোরসে ঢোকাতে গেলে বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় ছিটকে পড়তাম। দাদু হো হো করে হেসে উঠতেন।

একটু বড় হলে হ্যাচাকের কাচ মোছার অনুমতি পাই। খুবই শক্ত কাজ। আঙুলের মসৃণ চলনে তার সিদ্ধি। শুকনো ন্যাকড়া নিয়ে এ পাশ ও পাশ বুলিয়ে যাওয়া। মাঝেমাঝে ঘুঁটের ছাইয়ের পরশ। হাত কাটার সম্ভাবনা অবশ্য কম। প্লাস্টিকের বলয় তার কারণ।

হ্যাচাক জ্বালানো সকলের কম্মো নয়। তার জন্য দক্ষতার প্রয়োজন। এ ব্যাপারে লখাইমামা সিদ্ধহস্ত। হ্যাচাকের মাথায় তেল উঠিয়ে, মুখে আগুন দেওয়া। তেল বেশি উঠে গেলে বিপদ। দপ করে আগুনের লেলিহান শিখা তখন গগনচুম্বী। দুর্ঘটনার সম্ভাবনা। লখাইমামার মাত্রাজ্ঞান দেখে অবাক হতাম। দাদু বলতেন, মনে রেখো, যতটুকু দরকার ততটুকু তেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *