কাজল মণ্ডল- রূপকথা


হাঁটতে হাঁটতে হারাণবাবু গাঁ ছাড়িয়ে চলে এসেছেন নদীর ধারে। তাও বছর কুড়ি বাইশ পর এদিকে আসলেন। আসলে এত দিন চাকুরী সূত্রে বাইরে বাইরে কাটাতে হয়েছে। মাঝে মধ্যে ছুটি-ছাটায় গাঁয়ের বাড়ীতে এসেছেন। তবে এদিকটায় আসা হয় নি। এখন চাকুরী জীবন শেষ। ঝারা হাত পা। হাতে অনেক সময়। তাই শহরের বাড়ী ছেড়ে চলে এসেছেন পুরানো গাঁয়ের বাড়ীতে। ছেলে মেয়ে সব প্রতিষ্ঠিত এখন। স্ত্রীও এক আত্মীয়ের বাড়ী অনুষ্ঠানে গিয়েছেন। একা একাই এসেছেন তাই। গাঁয়ের বাড়ীটা এখন ফাঁকাই থাকে। মাঝে মধ্যে দেখে যায় অংশীদাররা।

নদীর ধারে একটা কেয়াগাছ আছে। তারই পাশে এসে এখন দাঁড়িয়েছেন হারাণবাবু। এই গাছটার সাথে,এই নদীটার সাথে,এই প্রকৃতির সাথে, উনার জড়িয়ে আছে কত কত সব স্মৃতি। সুখ দুখের সব স্মৃতি।

এখন বিকাল শেষ হব হব। কিঁচির-মিঁচির- করতে করতে কত রকমের পাখীরা উড়ে যাচ্ছে। ফিরছে নিজ নিজ বাসায়। শান্ত বাসায়। নদীর ও পাড়ের দূ-র- দিগন্তে সূর্যটা ডুবি ডুবি করছে এখন। তার রাঙা রঙ লেগেছে গাছের পাতায় পাতায়। উড়ে যাওয়া পাখির ডানায় ডানায়। রাঙা রঙ লেগেছে আকাশে আকাশে। এপাশে ওপাশে। এসব দেখতে দেখতে হারাণবাবু কেয়াগাছের পাশটাতে বসে পড়েছেন। মনে আসছে ফেলে আসা দিনগুলির হারিয়ে যাওয়া কত সব স্মৃতিরা। হারাণবাবু কেয়াগাছের পাশে পড়ে থাকা কয়েকটা পাতা কুড়িয়ে নিলেন। নিয়ে তা  দিয়ে একটা নৌকা বানালেন। কেয়াপাতার নৌকা। সেই কিশোরবেলার মতো। মনে আসছে সেই ছেলেবেলার বন্ধু বান্ধবদের কথা। তাদের সবার সঙ্গে এখন যোগাযোগ নাই। কত দিন কার কথা সব। তাও মনে হচ্ছে এইতো সেই দিনকার।

হারাণবাবু বানানো কেয়াপাতার নৌকাটা আস্তে করে সাবধানে নদীর জলে ভাসিয়ে দিলেন। নদীর অল্প স্রোতে নৌকাটা দুলতে দুলতে চলতে শুরু করলো। হারাণবাবুর স্মৃতিগুলির মতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *