অনির্বাণ চন্দ – মা নিষাদ


— বুঝলে ডাক্তার, আজ আবার বাঁ পায়ের হাঁটু থেকে পাতা পর্যন্ত টনটন করছে।
— হুঁ…তা বেশ অনেকদিন পরে হল তাই না?
— হ্যাঁ তা বটে। তোমার ওষুধে কাজ হয়।
— তুমি তো বিশ্বাসই করো না যে হোমিওপ্যাথি করে কিছু লাভ হয়…
— দেখো ডাক্তার, বুড়ো হচ্ছি তো, ধৈর্য চলে যাচ্ছে। তাই মাঝেমধ্যে এমন বলে ফেলি…
— হ্যাঁ ঠিক আছে ঠিক আছে। রেগুলার খাচ্ছো তো ওষুধটা? আস্তে আস্তে কমে যাবে। মিলিয়ে যাবে।
— হ্যাঁ। এই তো এখনই খেলাম। যেমন বলা আছে, খালি পেটে একবার দিনে…
— হ্যাঁ ঠিক আছে। এইবার কী করবে?
— ওই আর কী…খানিকক্ষণ টিভি দেখব ছবির সাথে। ফেসবুক করব।
— ফেসবুকও করবে?! বাব্বা! তা কচি-কচি প্রেমিকা-টেমিকা আছে নাকি?
— ধুর…সব মেয়ের বয়সী…ভালোও লাগে যদিও…
— শালা বুড়ো হাড়ে রস! ওষুধ দেব নাকি? তারপর জমিয়ে কোলাকুলিও কোরো না হয়…হা হা!
— ধ্যাত হারামি! আচ্ছা, রাখি এখন। আবার কথা হবে পরে।
— আরে লজ্জা পাচ্ছো কেন…?
— চুপ কর শালা ডাক্তার! রাখি এখন! পাটা ফুলেছে মনে হচ্ছে। গরম জলে পা ডুবিয়ে বসি। ছাড়লাম।
ফোনটা কেটে গেল। ডাক্তার বিতনু সেন ফোনটার দিকে তাকিয়ে রইলেন খানিকক্ষণ। কর্নেল তাহের ইসলামের বাঁ পা অ্যাম্পুটেটেড, তা প্রায় বছর পাঁচেক। এখনো সেই পায়ে ব্যথা অনুভব করেন। ফ্যান্টম পেন।
ব্যথা আছে, ভাবেন, কিন্তু আসলে নেই।
ঠিক যেমন ছবি বৌদিও নেই বছর তিনেক।

One thought on “অনির্বাণ চন্দ – মা নিষাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *