প্রসাদ সিং- জব চার্নকের দুঃখ


কলকাতায় প্রথমবার পর্দাপন করেছিলাম ক্লার্ক এর পরীক্ষা দিতে যাওয়ার কারণে । বাড়ি ফেরার পথে বাসে ঝিমুনি এসে যাচ্ছিল । জানতাম না সেই ঝিমুনি এর জন্যই এতবড় একটা অনুভূতি এর কাছে পৌঁছব ।
 
হাওড়া থেকে ঝিমুনি শুরু –
ধর্মতলা থেকে বেলঘরিয়া; সেখান থেকে বাবুঘাট দিয়ে ঘুরে তারপর স্টেডিয়াম ; তারপর শিয়ালদা স্টেশন দিয়ে আবার  ধর্মতলা ।
যখন শহীদ মিনারের কাছে গেলাম , মনে হল – শহীদ মিনার যাদের উদ্দেশ্যে , সেই শহীদরা আজকের কলকাতাকে দেখলে লজ্জায় মুষড়ে যাবেন । হঠাৎ মনে হল , আমার মধ্যে থেকে আমার একটা থ্রিডি হলোগ্রাম সদ্য বেরিয়ে এসেছে । সে নিজেকে পরিচয় দিচ্ছে জব চার্নক হিসেবে । সদ্য একটা ঘোড়ায় টানা গাড়ি তার পেছন পেছন হাজির । সে তা থেকে সোনার বিস্কুট , রূপোর থালা , খাবার – দাবার বিলিয়ে দিচ্ছে পার্কে বসে থাকা যাযাবরদের মধ্যে । অনেক ভদ্রস্থ লোকেরাও হাত পাতছিল । কিন্ত তার সেপাইরা তাদের গলা কেটে দেয় !
 
স্টেডিয়াম এর কাছে ফুটপাথের ভিখারিগুলোকে রাজভবনে নিয়ে গিয়ে চেয়ারগুলোতে বসিয়ে দেয়, আর ঘোষণা করে – ” যারা পৃথিবীতে খেতে পায়না, তারাই বুঝবে পৃথিবীর আসল ক্ষুধা । “
বাবুঘাটে গিয়ে তো জব বাবু রীতিমত রেগে গেলেন । চিৎকার করে উঠলেন – ” শিব ঠাকুরের জটাটাকে কি তোমরা ছাঁকনি ভেবেছো? ওনার মাথায় তো উকুনের গাদা হয়ে যাবে । গঙ্গাটাতো যেখান থেকে বেরিয়েছে, সেখানে গিয়েই আবার ঢুকবে নাকি ” ।
শিয়ালদা স্টেশনে গিয়ে তো একটা ট্রেনকে উড়িয়েই দিচ্ছিলেন বোমা মেরে । তার নাকি বুকে ব্যাথা হচ্ছিল; দু-প্রকারের – ভিখারিদের জন্য আর দুর্গন্ধের জন্য । আমি তাকে কোনোমতে নিরস্ত করি ।
‘এই যে দাদা! চন্দ্রী মোড় এসে গেছে, নামুন ।” বাড়ি ফিরেই লম্বা ঘুম । পরদিন সদ্য গল্পের কলশিটা উথলে পড়ছে । ব্রাশ করে না খেয়েই লিখতে বসেছি । জানালা দিয়ে একটা চেনা স্বর শুনতে পেয়ে তাকিয়ে দেখি – কঁকি ভিখারিনী পাশের বাড়ির কাকিমাকে চেঁচিয়ে ডাকছে – ‘ চাল দে মা ” ।

One thought on “প্রসাদ সিং- জব চার্নকের দুঃখ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *