অমৃতা খেটো- চোর পর্বত


রাজগৃহের এক শ্রেষ্ঠী পরিবারের কন্যা ভদদা(ভদ্রা)। একদিন বাতায়নে বসে সে দেখল রাজ পুরোহিতের পুত্র সত্তুককে রাজার প্রহরী বধ্যভূমিতে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে। সত্তুক তার বাল্যসখা। একই দিনে তাদের জন্ম,কোন অপরাধে তাকে রাজা মৃত্যু দন্ড দিয়েছেন তা সে জানে না। করুণায় তার মন বিগলিত হয়ে উঠলো। পিতাকে ভদদা বললো, সত্তুক ছাড়া সে বাঁচবে না। তাকে এক্ষুনি মুক্ত করতে হবে। পিতার চোখের মণি কন্যাটি, অগত্যা প্রহরীকে বহু কার্ষাপন ঘুষ দিয়ে সত্তুককে ছাড়িয়ে আনলেন পিতা। সুগন্ধী জলে তাকে স্নান করিয়ে ভদদা তাকে সেবা করতে লাগলো এবং তাদের বিবাহ হল।
ভদদা প্রচুর গয়না পরে থাকতো। সত্তুকের মণি মুক্তার গয়না দেখে খুব লোভ হল। ভুলে গেল এই নারীটির জন্য সে সুন্দর জীবন পেয়েছে। সত্তুক ভদদাকে বলল, “চল, আজ চোর পর্বতে যাবো। মন্দিরের দেবতাকে পুজো দেব, তাঁর কৃপায় মুক্তি পেয়েছি।তুমি খুব সাজ–সজ্জা করে চল”। ভদদা সর্বালঙ্কারে ভূষিতা হয়ে স্বামীর সাথে চোর পর্বতে গেল। মন্দিরের কাছে গিয়ে সত্তুক তার মতলবের কথা স্ত্রীকে বলল। ভদদা চমকে উঠল, কিন্তু সাধারণ মেয়ের মত কেঁদে ফেলল না ভয়ে ও অভিমানে। ঠিক করে ফেললো করণীয় তার কি আছে। ভদদা বলল, ” আমাকে হত্যা করে অলংকার তুমি নিও কিন্তু তার আগে শেষবারের মতো তোমার সর্বাঙ্গে আমাকে আলিঙ্গন করতে দাও। আমার কোনও দুঃখ থাকবে না, তোমাকে আমি ভীষণ ভালোবাসি প্রিয়।” সত্তুক হাসতে হাসতে তাকে জড়িয়ে ধরল, ভদদা আলিঙ্গন করতে করতে তাকে ধাক্কা মেরে পাহাড় থেকে ফেলে দিল। সত্তুকের মৃত্যু হল।
এতক্ষণে তার চোখ ফেটে জল এল। কষ্টে সে ঠিক করল বাড়ি ফিরবে না। তারপর জীবন তাকে অনেক শিক্ষা দিল। সে শ্বেতাম্বর জৈন সংঘে দীক্ষা নিল। কঠোর সাধনা করল, সাধ্বীরা তার মস্তক মুন্ডন করে দিল। কোঁকড়া চুলে আবার মাথা ভরে গেল। চুলের কুন্ডলী দেখে তসর নাম রাখলো কুণ্ডলকেশা।
 
জৈনদের শিক্ষায় ভদদা সন্তুষ্ট হতে পারলো না। বেরিয়ে এলো, সে শুনেছে চন্দন বৃক্ষের ডাক। আম্রবনে ভগবান বুদ্ধ ধর্মদেশনা দিচ্ছিলেন। শারীপুত্রের সাথে ভদদার অনেক তর্ক যুদ্ধের পর হেরে গিয়ে ভদদা মহা কারুনিকের দর্শন পেল। তার জীবন ধন্য হল। অর্হত্ব লাভ করল, ভিক্ষুনী সংঘে যোগদান করল। থেরি গাথায় তার নামে পাঁচটি গাথা আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *