বিশ্বদীপ চক্রবর্তী – বিল গেটসের বিপদ


অ্যাডেয়ারের মোড়ে বিল গেটসের সঙ্গে দেখা।
হঠাত চেনা মুশকিল। ফিকে নীল জিন্সের উপরে ফ্যাব ইন্ডিয়ার ঘিয়ে ফতুয়া। কাঁধে কোন ল্যাপটপ ব্যাগও নেই।  হাঁটু অবধি লুঙ্গি তুলে বিলের পাশে দাঁড়িয়ে একজন কফি খাচ্ছে। সে নিশ্চয় চিনতে পারেনি বিলকে। অবশ্য সাদা চামড়া জনিত সম্মান বজায় রেখে কফি খাচ্ছে নিঃশব্দে।
আমি কানের কাছে ফিসফিস করে বললাম,বিল?
-এই যাঃ, চিনে ফেলেছ? মুখের হাসিটা স্বস্তি আর অস্বস্তির মাঝখানে ত্রিশঙ্কুর মত ঝুলছিল।
আমি তো সাংবাদিক, স্কুপ করা যায় কিনা মাথায় খেলছিল। সবাই জানে বিল গেটস সারা বিশ্বের ভাল করার জন্য টাকা ছড়াচ্ছিলেন, কিন্তু দেউলিয়া হয়ে চেন্নাইয়ের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফিল্টার কফি খাবেন, এটা নেহাত বাড়াবাড়ি। সত্যিই কি আর পাঁচতারা হোটেলের কফি শপে বসার আর্থিক সামর্থ্য নেই বিলের?
ভুলটা অবশ্য ভেঙ্গে গেল খুব শিগগির। পথচারী এক ভিখিরি সাদা চামরা দেখে ভিক্ষে চাইতে এসে গেছিল, বিল অম্লান বদনে তার বাটিতে ফেলে দিল একটা একশো ডলারের নোট। 
-চেন্নাইতে কি কোন কাজে?
-কাজ খুঁজতে এসেছিলাম, ভাল কিছু। 
-আপনি কাজ করবেন?
-করতে চাই, কিন্তু আমাকে নেয় না। মানে নেয়, কিন্তু আমি থাকলে কাজটা কেমন মেকি হয়ে যায়। তাই আর করতে পারি না। তবু খুঁজে বেড়াই, কেউ ভাল কোন কাজ করছে কিনা। কিছু টাকা দিতে পারতাম।
শুনেই আমার নোলা সকসক। ইস, আমার যদি এন জি ও থাকতো।
তবু তরবরালাম, আমি খুঁজে দেখবো বিল?
-খোঁজো, খোঁজো। সেটাই তো করছি সারা পৃথিবী ঘুরে। কিন্তু তবু হচ্ছে না।
-কি হচ্ছে না বিল?
-শেষ হচ্ছে না টাকা। বেড়েই যাচ্ছে। কিছুতেই কমাতে পারছি না।  ফ্যাসফেসে গলায় বললেন বিল।
খুবই বিব্রত, হেরে যাচ্ছেন জীবনে প্রথমবার।  টাকা যে টাকা আনতেই থাকবে, কি করে যে উনি ভুলে গেছিলেন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *