ঔপনিবেশিক শহর বর্ধমানের স্থাপত্য- ১ পর্ব

দিগন্ত রক্ষিত 

শুরুর কথা

ভারতবর্ষ যুক্তসাধনার দেশ। ভারতবর্ষের স্থাপত্যে যে বিদেশী প্রভাব বহু প্রাচীন কাল থেকে শুরু হয়েছিল, তা গান্ধার শিল্প থেকে শুরু করে ইউরোপীয় বা ঔপ্যনিবেশিক স্থাপত্যের ভাবনা পর্যন্ত প্রতক্ষ করা যায়। শহর বর্ধমানকে কাছথেকে দেখার সৌভাগ্য হওয়ার ফলে এখানে বহু ধারার সংমিশ্রণ লক্ষ্য করেছি। স্নাতক স্তরের প্রারম্ভিক শিক্ষা পর্বে যখন শিল্পের ব্যাকরণগত দিক দেখানো হত, তখন শহরের স্থাপত্য শৈলী পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে দেখার সুযোগ হয়েছে। যদিও চর্চার ক্রমপরিনতিতে উপলব্ধি করি সে দেখা অনেকটাই অসম্পূর্ণ।

আমরা প্রায়ই শুনে থাকি ভবিষ্যতে আমাদের অনেক সাংস্কৃতিক নিদর্শনই ইতিহাস রচনার জন্য থাকবে না। মানুষের আচার-ব্যাবহার, ধ্যান-ধারণা পরিবর্তনের সাথে সাথে নিজের সংস্কৃতি রক্ষার উপাদানগুলি বদলে যাচ্ছে। আর এই বদলে যাওয়া আমাদের স্বার্থান্বেষী নব নাগরিক চেতনা বহুলাংশে যেভাবে বিস্তার লাভ করছে, হয়তো সত্যই ভবিষ্যতে আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে তার নব সংরক্ষণ বা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবার ফলে কৃত্রিম ও বিকৃত নিদর্শন হয়ে থাকছে।

বাংলার সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সাধারণত ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বক্তিয়ার খিলজির নবদ্বীপ বিজয় থেকে ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ানি লাভ পর্যন্ত ৫৫০ বছরের কিছু বেশি সময়কে ঐতিহাসিকরা সর্বসম্মতিক্রমে ‘মধ্যযুগ’ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। ঐতিহাসিক ডঃ রমেশচন্দ্র মজুমদার শেষোক্ত পর্বকে দুটি পর্বে ভাগ করেছেন। ১৭৬৫ থেকে ১৯০৫ পর্যন্ত প্রথম পর্ব এবং ১৯০৫ থেকে ১৯৪৮ পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্ব। অর্থাৎ প্রথমটা বাংলার সংস্কৃতিতে ঔপ্যনিবেশিক ভাবধারার আত্মপ্রকাশ ও দ্বিতীয় পর্বে তার বিকাশসাধন ঘটেছে।

শহর বর্ধমানের যেসব স্থাপত্যশৈলী সমন্বিত ভাবধারা আলোচনা করবো তা মোটামুটি সতেরো শতক থেকে উনিশ শতকের এক প্রসারিত ভাবধারা। আর এই ভাবধারার সম্লিলিত রূপের অনুসন্ধান ও বিকাশ এক্ষেত্রে আমাদের আলোচনার মুখ্য বিষয়।

পরবর্তী পর্ব আগামী সংস্করণে…

শেয়ার করুন

2 thoughts on “ঔপনিবেশিক শহর বর্ধমানের স্থাপত্য- ১ পর্ব

  1. তোমাদের শুভকামনাই আমার অনুপ্রেরণা, সঙ্গে থেকো।।@ Tondra krity

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *