বিজন দাসের চারটি ছড়া

কেয়াপাতা’য় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতে চলা বিজন দাসের “ছড়ায় ছোটদের পথের পাঁচালি” সম্পর্কে পাঠক মহলের আগ্রহ আমাদের মধ্যেও উৎসাহের সঞ্চার করেছে। ছড়াকার বিজন বাবু কী ভাবে বিভূতিভূষণের প্রকৃতির ধারাপাতকে তাঁর ছড়ায় গেঁথেছেন তা জানতে আমরা সবাই উৎসুক। এই ধরনের একটি চিরকালীন সৃষ্টিকে নিয়ে কাজ করতে গেলে লেখকের প্রতিভা, নৈপুণ্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত যাপনের স্তরও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। মুলস্রতের অন্তরালে থেকে সাধনা চালিয়ে যাওয়া বিজন দাসের গ্রাম মহিষগড়িয়ায় প্রবেশ করলে আপনার নিশ্চিত মনে হবে নিশ্চিন্দিপুরেই চলে এসেছেন বোধহয়। তাঁর সৃষ্টির সাথে তাঁর জীবন, বাসস্থান কতটা সম্পর্কিত সে গল্প আপনাদের অবশ্যই শোনাব। তার আগে বিজন দাসের অজস্র ছড়া থেকে কয়েকটি ছড়ার সাথে আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব। ছড়াগুলি কেয়াপাতা’র মুদ্রিত সংখ্যার বিভিন্ন সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রথম পর্বে চারটি ছড়া। সহজ-সরল কথা ও আঙ্গিকের আড়ালে প্রত্যেকটার মধ্যে নিহিত আছে বিশেষ বার্তা যা আপনাকে নাড়িয়ে দেবেই।

অন্য চোখে কবিগুরু

কবিগুরু কবিগুরু

বলতে লাগে শরম,

সঞ্চয়িতার পাতা ছিঁড়ে

খুকুর দুধ গরম।

কবিগুরু কবিগুরু

আমরা দারুণ কৃতি

সহজপাঠের সহজ পথে

জটিল রাজনীতি।

কবিগুরু মনের ভিতর

একটা ব্যথা গোঙায়

দোকানি দেয় সওদা মুড়ে

স্বরবিতানের ঠোঙায়।

কবিগুরু কবিগুরু

‘বেপার হচ্চে মেন

তিনি শুধু কবিই তো নন

কবিতাও লিখতেন।

নেহিজাদা কেপিটেল ভাই

কাগজ কোলম সার,

প্রফিট করেন নোবেল প্রাইজ

মেগা বওসাদার’।

কবিগুরু কবিগুরু

বৈশাখে উত্তাল,

টু-পাইসের প্রফিটেবল

টেগোর ফেস্টিভ্যাল।

কবিগুরু কবিগুরু

আমরা পাবো সেলাম,

নোবেল চুরির ক্রিডিডটা তো

আমরাই ফার্স্ট পেলাম।

দুটো মায়ের লড়াই

মেঘের দেশে ছুটির হাওয়া

ভিনমতে যায় ভেসে

শুকিয়ে যাওয়া মাটির গন্ধে

মাটির গন্ধ মেশে।

ঘরেতে মা উঠানে মা

দুয়ারে মার তাড়া

দুটো হাতেই দশখানা হাত

নয়কো দিশেহারা।

দুর্গামায়ের দশটা হাতে

মহিষাসুর হারে

কাজের অসুর আমার মায়ের

সঙ্গে কি আর পারে!

বেদীতে মা ঘরেতে মা

রূপ যে মায়ের নান

এই চারদিন দুটো মায়ের

দেখছি লড়াই খানা।

আঙুর ফল

অনেক বুদ্ধি খরচ করে

বহু চেষ্টার পরে

উঠল শেয়াল আঙুর গাছে

আনন্দ না ধরে।

হাত ছিঁড়ছে পা ছিঁড়ছে

গা রক্তে লাল

তা হোকগে মনখানা তার

আমোদে উত্তাল।

সাধটা মনে সবার আগে

আঙুর গাছে উঠে

মিঠে মিঠে সব আঙুরই

খাবেন তিনি লুটে।

হায়রে কপাল মুখে দিতেই

বাপরে সে কী টক!

উল্টো হল পাল্টা হল

ভেস্তে গেল ছক।

তলায় যারা আছে তাদের

শেয়াল হেসে বলে

এই জগতের সব মিষ্টি

আছে আঙুর ফলে।

নামতে মোটেও পারছে নাকো

ভাগ্য দোরে খিল

যা হোক করে ওঠা তো যায়

নামাটা মুশকিল।

ফাস্টু কেলাস আছি

বোলো না ভাই ভূতের কথা

বুঝছি হাড়ে হাড়ে,

ভূতের বোঝা বইতে বইতে

ভুত চেপেছে ঘাড়ে।

কত রকম ভূত ওরে তার

কত রকম বোকা,

নানান ক্যারেক্টারের ভূত

সামলানো কি সোজা?

ওল্ড ভূত আর মডার্ন ভূত

ভূত আছে পোষ্ট-মডার্ন,

নরমপন্থী চরমপন্থী

পন্থী আছে বামডান।

ইন্টারনেট চড়েও ভূতের

কত যে আমদানি,

সেইসব ভূত সামাল দিতে

নাকানি চোবানি।

এসব ভূতের হাত থেকে যে

কেউ পাবে না পার,

ভূতের সঙ্গে ভূত না হলে

মটকে দেবে ঘাড়।

তিড়িংবাজি চিড়িংবাজি

ভূতের সঙ্গে নাচি,

ভূতের সঙ্গে ভূত হয়ে তো

ফাস্টু কেলাস আছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *