বর্ষা সংখ্যা, ২০২০

গল্প
চমক মজুমদার
গাছ ঠাকুর

কথাটা রাতেই বলেছিল মঙ্গল দাস। বাঁধের ওপাড় থেকে শোঁ শোঁ করে ক্রমশ জোলো হাওয়ার ঝাপট বাড়ছে, মদের গ্লাসটা টেবিলে রেখে লুঙ্গিটা কোমরে বাঁধতে বাঁধতে গেস্ট হাউসের জানলা দিয়ে অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেছিল মঙ্গল—“আকাশের অবস্থা ভালো নয় স্যার, ঝড় হতি পারে।” ঝড় উঠলে পরের দিন সকালে আমার কাজের ক্ষতি। মোবাইলে ওয়েদার আপডেট দেখতে যাই। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের একদম শেষ প্রান্তের এই হেমনগর গ্রামে মোবাইলের নেটওয়ার্ক অতি কষ্টে এসে পৌঁছায়। তখনই কথাটা বলেছিল মঙ্গল। লুঙ্গিটা ভুঁড়ির নিচে আটকে পেটে হাত বোলাতে বোলাতে ও বলেছিল—কিন্তু এখানে কুন ভয় নাই স্যার। গাছঠাকুর সব সামলে নেবেন।

পাশে বসে সৈকত আর একটা পেগ বানাচ্ছিল। মঙ্গল দাসের কথাটা শুনে আমি অবাক হলাম। এমন দেবতার নাম আমি আগে শুনিনি। এই সুন্দরবনের জলে জঙ্গলে কত যে লৌকিকতা লুকিয়ে আছে কে জানে। সৈকত আমার মুখের ভাব বুঝতে পেরে ফিসফিস করে বলল–-লোকাল দেবতা। একটা গাছ নাকি এখানে সব অপকর্ম থেকে রক্ষা করে। এসব গ্রামীণ কুসংস্কার থেকে আমি দূরেই থাকি। আসলে এখানকার মানুষদের করার কিছুই নেই। এমনিতেই মূল জনপদ থেকে বিচ্ছিন্ন। তার উপর প্রকৃতির কাছে অসহায়। এদের এমন কুসংস্কারের কাছে হয়ত আশ্রয় নিতেই হয়। আর সেখান থেকে জন্ম নিয়ে নেয় এক একজন দেবতা। মুচকি হেঁসে উঠলাম। –-হাসি নয় স্যার। গাছঠাকুর সত্যি আমাদের রক্ষা করেন। আয়লার সময় উনি দাঁড়ায় থাকায় কিছুই হয় নাই এই গেরামের। জল উঠেছিল বটে কিন্তু তা অন্য গেরামের তুলনায় কিছুই নয়। লোকটাকে এতক্ষণ ভালোই লাগছিল ।

মঙ্গল দাস লোকটা সেই অর্থে তেমন কেউ নয়। সরকারী কাজে এসেছি হিঙ্গলগঞ্জের শেষ প্রান্ত হেমনগর গ্রামে। উঠেছি সরকারী গেস্ট হাউসে। এই গেস্ট হাউজের কেয়ারটেকার মঙ্গল দাস। একজন কেয়ারটেকার সেই অর্থে কেউকেটা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু এ এলাকায় মঙ্গল দাসের অপরিসীম প্রভাব। আসলে এত দূর থেকে বিডিও আর পঞ্চায়েত অফিসে একটু যোগাযোগ বাড়লেই প্রভাব বাড়তে থাকে। তখন এই মানুষগুলোই প্রশাসনের চোখ, নাক, কান হয়ে ওঠে। কোনো খবরের সত্যতা যাচাইয়ে ওসি ফোন করে এদেরই। এরাই ঠিক করে দেয় সরকারী মুরগীর বাচ্চা কারা কারা পাবে। তার উপরে মঙ্গল স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের ঘনিষ্ঠ ।

       এই কাজটার জন্য যখন আমার আসা ঠিক হল তখন আমার লোকাল আফিসার সৈকত জানিয়েছিল, কোনো অসুবিধা হবে না। ওই অঞ্চলে মঙ্গল দাস আছে তো। আসার সময় জেলা সদর থেকে গাড়ি নিয়ে হাসনাবাদে ভেসেলে নদী পার হয়ে হিঙ্গলগঞ্জ হয়ে সোজা চলে এসেছিলাম লেবুখালি। সেখান থেকে আবার নদী পেরিয়ে টানা একঘণ্টা অটোতে এসে পৌঁছেছি এই হেমনগরের অতিথিশালায়। জার্নির ক্লান্তি অনেকটাই ভুলিয়ে দিয়েছিল মঙ্গলের আতিথেয়তা। তারপর এই মদ্য পানের আসরের আয়োজন আমার কাছে মঙ্গলের নম্বর বেশ খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু এখন ও যে ভুলভাল বকছে একটা গাছ কে নিয়ে, সেটাই আমার বিরক্ত লাগছে। ও নিশ্চয় নেশার ঘোরে এসব বক বক করছে। কাল সকালে সরজমিনে কাজে নেমে পড়ার কথা। ফরেস্টের লোক, বিএসএফের লোক আসবে। আমার এখন কেটে পড়াই ভালো। সৈকতকে চোখ টিপলাম। মদ্যপানের আসর ভেঙে গেল।

দ্বীপটার চারপাশে নদী। সুন্দরবনের এই অঞ্চলে পাকা নদীবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। একদিকে নোনা জল জোয়ারের সময় ডুবিয়ে দেয় ম্যানগ্রোভের জঙ্গল। অন্যদিকে মনুষ্য বসতিতে প্রাণের কোলাহল। মাঝে সীমানা বেঁধে দেবে এই নদী বাঁধ। প্রত্যেকেরই সীমানা নির্ধারণ। পরেরদিন সকালে স্পটে গেলাম আমরা। আবহাওয়া বেশ খারাপ। কালো হয়ে থাকা গম্ভীর আকাশ থেকে ঝরছে মাঝারি মানের বৃষ্টি। এ অঞ্চলে নদীবাঁধের জন্য যে জমি লাগবে তা নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। বর্তমান দূর্বল নদীবাঁধের এলাকাতেই নতুন বাঁধ করতে সামান্য অতিরিক্ত জমি দরকার। তারও মাপজোঁক করতে হবে। জেলা থেকে এসব কাজের তদারকি করতেই আমার হেমনগর আসা। স্থানীয় স্তরে সৈকত অনেকটা কাজ এগিয়ে রেখেছে। বৃষ্টির মধ্যে সাইট ঘেরা শুরু হল। আলোচনা হতে লাগল ফরেস্ট, কোস্ট গার্ড, পঞ্চায়েতের লোকজনের সাথে। এমন সময় গাছটাকে প্রথম দেখলাম আমি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় একজন ঋষি হাত ছড়িয়ে বসে আছেন। বেশ বয়স্ক একটা অশত্থ গাছ। গাছের নিচে দুটো পরিত্যক্ত প্রতিমা। একটা শিবলিঙ্গ, কিছু ফুল পড়ে আছে—সম্ভবত সকালে পুজো দেওয়া হয়েছে। আর ডালে বাঁধা লাল সুতোর ঢিল, মানত। আমাদের কাজ শুরু হতেই বেশ কিছু স্থানীয় লোকজন ভিড় করেছিলেন। এই গাছটার কাছাকাছি আসতেই ভিড় আরো খানিকটা জমল। গাছ একেবারে পুরোনো বাঁধের গা ঘেঁসে দাঁড়িয়ে অনেকটা জায়গা নিয়ে গ্রামের অংশটায়। এই অংশটায় বাঁধ অনেকটা সরু, গাছকে জায়গা দিতে গিয়ে। মাপজোকে নতুন প্রস্তাবিত বাঁধের মধ্যে চলে এল গাছের এলাকা। পুরনো বাঁধের অবস্থা নড়বড়ে। নতুন বাঁধ করতে কাটা পড়বে এই গাছ। ফরেস্টের লোকের সাথে কথা বলে দেগে দেওয়া হল গাছে। এই রঙের দাগ থাকলে কাটা পড়বে গাছ। কিন্তু প্রথমত স্থান্তরিত করতে হবে গাছের নিচের অস্থায়ী মন্দির। এই সিদ্ধান্ত জানাজানি হতেই গুঞ্জন ছড়ালো উপস্থিত মানুষের মধ্যে। গুঞ্জন ক্রমে বিক্ষোভে রূপান্তারিত হতে দেরি হল না ।

গাছঠাকুরের গায়ে হাত দেওয়া চলবে না। এ গাছ কাটতে দিব না মোরা। —গাঁ গঞ্জে লৌকিক দেবদেবীকে নিয়ে এমন সেন্টিমেন্ট থাকাটা স্বাভাবিক। সে কথা মাথায় রেখে অস্থায়ী মন্দির স্থানান্তকরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু এত বড়ো গাছ তো আর শিফট করার চেষ্টা করা সম্ভব নয়। আমাদের হয়ে সৈকত গ্রামবাসীদের বোঝাচ্ছিল। মাঝে মাঝে ব্যস্ত হয়ে এদিক ওদিক ফোন করছিল, নেটওয়ার্ক পেলেই। বৃষ্টির তেজ ক্রমশ বাড়ছে। কাজের কাজ কিছুতেই হচ্ছে না। স্থানীয়রা ঘিরে ধরেছে আমাদের। তাদের গলার তেজ বাড়ছে। ছাতার তলায় আমরা ক্রমশ যেন গুটিয়ে যাচ্ছি। সৈকত কানে কানে বলল, এই সময় মঙ্গল থাকলে সুবিধা হত। মাথাটা গরম হয়ে গেল আমার। সরকারের এত ক্ষমতা, এত প্রভাব তাও সামান্য গেস্ট হাউজের কেয়ারটেকারের কাছে মাথা নত করতে হবে। এই অপমানটা ঠিক হজম হচ্ছে না। সমাধান বের করতেই হবে আমার। প্রস্তাব দিলাম, নদীবাঁধ কিছুটা বেঁকিয়ে গাছটাকে বাঁচিয়ে নদীর দিকে করা হোক। কিন্তু এখানে ফরেস্টের আপত্তি। পুরনো নদী বাঁধের ধার থেকেই ম্যানগ্রোভের জঙ্গল। থিকথিকে কাদায় মাথা উঁচিয়ে থাকে শ্বাসমূল। জোয়ারের জল এ অরণ্য ভাসিয়ে ধাক্কা মারে পুরোনো নদী বাঁধে। এমতাবস্থায় বন দপ্তর রাজি নয় ম্যানগ্রোভ নিধনে, তাদের আইনগত সমস্যাও আছে। এবার ঠিক হল নদী বাঁধ ঘুরিয়ে গাছকে বেষ্টন করে গ্রামের দিক থেকে হবে। তাতেও আপত্তি গ্রামের মানুষের। নদী যেভাবে পাড় ভাঙছে তাতে যে কোনোদিন ধ্বসে যেতে পারে গাছ ঠাকুর। ভিড়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। আমার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বলছে বিষয়টা এখনই স্থিমিত না করলে হাতের বাইরে চলে যেতে পারে। ফরেস্টের বিট অফিসার কানের কাছে মুখ এনে বললেন—এখান থেকে এখন সরে যাওয়া ভালো। কিন্তু সরে যাব বললেই কি সরে যাওয়া যায়। আমরা প্রায় ঘেরাও হয়ে আছি গ্রামবাসীদের দ্বারা। দাঁড়িয়ে আছি নদী বাঁধের উপর। এই জায়গায় নদীবাঁধ সরু—সম্ভবত গাছ ঠাকুরকে জায়গা দিতে গিয়েই। একজনের বেশি দাঁড়ানো যায় না। ওপাশেই নদীর এলাকা। ফুট পাঁচেক দূরে ম্যানগ্রোভের জঙ্গল। শ্বাসমূল মুখ উঁচিয়ে আছে। জোয়ারের সময় নদীর ঢেউ এসে ধাক্কা মারে নদীবাঁধে। এই অংশটা আর বেশিদিন ঢেউয়ের ধাক্কা সহ্য করতে পারবে বলে মনে হয় না। এই জন-বিক্ষোভে কেমন একটা শ্বাসকষ্ট হচ্ছে আমার। ছাতা সরিয়ে আকাশের দিকে মুখ করি। শ্বাস মূলের মতো উঁচিয়ে বাতাস নিতে চাই। এমন সময়ই এসে হাজির হয় মঙ্গল দাস, সাথে পঞ্চায়েত প্রধান। আমরা যেন নতুন বাতাস পেলাম। মঙ্গল দাস লোকটার প্রভাব কতটা আবার নতুন করে টের পেলাম। মিনিট খানেকের মধ্যে ভিড়টা ফাঁকা করে দিল জাদুবলে। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে যারা একটু নেতা গোছের, তাদের মঙ্গল বোঝালো বিডিও অফিসে একটা সমাধান খোঁজা হবে, মিটিংয়ে ও নিজে প্রধানকে নিয়ে এ বিষয়ে কথা বলবে বিডিও সাহেবের সাথে, ততদিন কাজ স্থগিত ।

গেস্ট হাউজে ফিরে এসে মনটা খচখচ করছে সেই থেকে। ল্যান্ড লাইন থেকে ফোন করে হেড অফিসে রিপোর্ট করলাম। সৈকত বিডিও সাহেবের সাথে কথা বলেছে। আমি ভাবছিলাম মঙ্গলের কথা। ওকে বেশ হিংসা হচ্ছিল আমার। এত প্রশাসনিক ক্ষমতা এত লোকজন এত আয়োজন সত্ত্বেও সামান্য গ্রামবাসীর প্রভাবের কাছে আমরা কেমন মিইয়ে গেলাম আজ। একটা গাছ নাকি মানুষ হয়ে যায় । দুহাত ছড়িয়ে আটকে রাখে নদীকে। জড়িয়ে রাখে গ্রামের মানুষকে। কলকাতা থেকে এসে এমন গল্প কথা শুনতে হচ্ছে বলে মাথা গরম হয়ে যাচ্ছিল, আরও মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে আমরা হেরে যাচ্ছি বলে। হেরে যাচ্ছিলাম একটা কুসংস্কারের গল্পের কাছে। হেরে যাচ্ছিলাম একটা ছাপোষা গেঁয়ো লোকের কাছে। আমার ইগো আমার কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল। মঙ্গলের সেসব হুশ নেই। সে বকেই যাচ্ছে—আপনাদের খবর আমায় গাছঠাকুরই দিল। আমি চমকে উঠি। মঙ্গল কাজ করতে করতে বক বক করে চলে—গেস্ট হাউজের ছাদ থেকে গাছঠাকুরকে দেখা যায়, আমাদের ছাদে আবার বৃষ্টিতে জল জমে যায়। সরকারী কাজ তো, বোঝেনই—রেন পাইপটা ঠিক কাজ করে না। তো ছাদে গিয়ে দেখি গাছঠাকুর আমায় হাত বাড়ায়ে ডাকতাছে। তখনই মনটা কু গাইল। প্রধানকে নিয়ে ছুট দিলুম।

হাতের চায়ের কাপে চুমুক দিলাম। এই সুন্দরবনের মানুষজন ভালো নয় স্যার। একসময় তো ডাকাইত ছিল ইরা। বকবক করে চলে মঙ্গল। আমার বুকের মধ্যে ইগোটা খচখচ করতে থাকে।

ইগোর খচখচানি কিছুতেই থামেনা। রাতে ঘুম আসেনা আমার। ছটফট করতে থাকি। বাইরে বৃষ্টির তেজ বেড়েছে। হঠাৎ করে লোডশেডিং হয়ে যায়, চরাচর অন্ধকার। আমি আর থাকতে পারিনা। ছাতা আর মোবাইলটা নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। বৃষ্টির ছাট লাগছে মুখে। গেস্ট হাউজের সামনেটা অনেকটা বাগান। বাগান পেরিয়ে মেন গেট খুলে বাইরে এসে দাঁড়াই আমি। সামনেই বাঁধ, বাঁধের উপর সোলার স্ট্রিট লাইট জ্বলছে। সেই আলোয় আমি চিনে নিচ্ছি বৃষ্টির ফোঁটা। ঢালু জমিতে পা রেখে উঠে পড়লাম বাঁধের উপর। বাঁধের ওপাড়ে ম্যানগ্রোভের জঙ্গল। জঙ্গল ভাসিয়ে জল ধাক্কা মারছে বাঁধের গায়ে। আমি হাঁটতে লাগলাম বড়ো গাছটার দিকে। বৃষ্টির ছাঁট ছাতা মানছে না। সোলার ল্যাম্প পোস্টের আলোয় পরিস্কার দেখা যাচ্ছে না। তবু আমি এগিয়ে চললাম। ম্যানগ্রোভের জঙ্গলটা শেষ হতেই ডান দিকে নদীর সাথে সরাসরি দেখা। ঠাণ্ডা হাওয়া আমার শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দিল। দূরে একটা ভোঁ শুনতে পেলাম, জাহাজের। বাংলাদেশ থেকে এই পথে বাণিজ্য চলে। বড়ো বড়ো জাহাজ এই নদী দিয়ে চলে যায় কলকাতা বা হলদিয়া। আর তাদের যাতায়াতের বড়ো ঢেউগুলো এসে ধাক্কা মারে দুর্বল নদীবাঁধে। আমার সামনে বাঁদিকে দাঁড়িয়ে রয়েছে বড়ো গাছটা—মঙ্গলের গাছ দেবতা। দুহাত ছড়িয়ে যেন একটা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। নদীর দিক থেকে তীব্র হাওয়া আসছে। আমি আমার ছাতাটা ধরে রাখতে পারছিনা। বৃষ্টির ছাঁট ভিজিয়ে দিচ্ছে আমায়। বেশ শীত করছে, হাওয়ার দাপটে বড়ো গাছটাও দুলছে। ঢেউ এসে ঝাপটা মারছে নদী বাঁধটায়। ঝুপ ঝুপ শব্দ। আমি আরো কাছে গেলাম গাছটার। বাঁধের উপরে সেই সরু অংশটায়। ডানদিক থেকে ছুটে আসা হাওয়ার শন শন শব্দ আমার কানে। আধো অন্ধকারে কিছু ভালো করে বোঝা যায় না। আমি ছুঁতে চাইলাম গাছটাকে। পায়ের তলার মাটিটা কেমন টলে গেল। ঢেউয়ের ধাক্কায় খসে পড়ছে নদী বাঁধ। আমার পা ফস্কে গেল। টাল সামলাতে না পেরে আমি পড়ে যাচ্ছি নদীর কোলে। চিৎকার করার মতো ক্ষমতাও তখন নেই। নদীতে পড়লে ঢেউ টেনে নেবে নদীর গর্ভে। হঠাৎ গাছটা তার দুটো ডাল যেন দুটো হাত হয়ে গেল। জড়িয়ে ধরল আমায়। টেনে নিল মূল কাণ্ডের দিকে। গাছটাকে জড়িয়ে জ্ঞান হারালাম আমি।

Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
সাম্প্রতিক পোষ্ট