বাণীব্রত কুণ্ডু

ভাই অমিত,

সেদিনের চন্দননগরের এক অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে সুমিতাভ-র কাছে বর্ষার ‘কেয়াপাতা’ (২০১০) পেলাম। স্টেশনচত্বরের জরদ আলোয় মোহময় লেগেছিল। সেদিন রাতেই হালকা করে দু-চোখে বুলিয়ে নিয়েছিলাম ‘কেয়াপাতা’কে। পরবর্তী কয়েকদিনে ভালো করে ‘কেয়াপাতা’র অন্তবয়ন, চালচিত্র, অলঙ্করণ, পরিচিতিপর্বে সবুজশব্দের সমারোহ এবং বিন্যাস অনুধাবন করতে চেষ্টা করেছি। বেশ ভালো। ভালো লাগলো বেশকিছু কবিতা। বোধিসত্ত্ব বন্দ্যোপাধায়, সুনীতি মুখোপাধ্যায়, শ্যামলবরণ সাহা-র অনবদ্য কবিতাগুলি ছাড়াও মহম্মদ সামিম, সুমিতাভ মণ্ডল, অভিরুপ দাসে-এর কবিতা নজর কাড়ে। ছড়াগুলোও বিমল আনন্দমেলা বয়ে আনে ‘কেয়াপাতা’য়। সাহিত্যে মনুষ্যেতর জীবের চরিত্রায়নে ‘দুঃখী প্রজাপতি’ এক সুন্দর প্রয়াস আর সুলেখা অধিকারীর ব্যক্তিগত নিবন্ধটি অবশ্যই সংবেদনশীল এবং হৃদয়গ্রাহী। তবে তোমার লেখা ‘মরনবুড়ি’ যেন সত্যই পাখির মত উড়ে যায়। নীলকণ্ঠ পাখির মতো। উড়িয়ে নিয়ে যায় এক অপরূপ রুপকথার দেশে। যে রূপকথা একইসঙ্গে ভীষণভাবে ছুঁয়ে আছে কঠিন সত্যকে। সমাজের এই নির্মমতার সাবলীল ভঙ্গিমায় উন্মোচন নিশ্চয়ই অনেককেই দাঁড় করাবে শব্দভাঙার কাঠগোড়ায়।

পরিশেষে বলি ‘কেয়াপাতা’র প্রচ্ছদটি অপূর্ব। শিল্পী শ্যামলবরণ সাহা-র রেখানৈপুণ্য সত্যিই মনোরম। আর কী? প্রিয় ‘কেয়াপাতা’র কলেবরের শ্রীবৃদ্ধি কামনা করি। সকল লেখক ও পাঠককে শুভেচ্ছা জানাই। সবসময় ভালো থাকুন ওপরকে ভালো রাখুন, বাংলাকে ভালোবাসুন, বাংলা ভাষাকে ভালোবাসুন।

অভিনন্দন ও ভালোবাসা সহ- বাণীব্রত

শ্রীরামপুর, হুগলী।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহিত্যিক বিভাস রায়চৌধুরীর সাক্ষাৎকার

X