শুভাশিস মল্লিক

বৃষ্টি

এক

বিকেলের দিকে বৃষ্টিটা অনেকটাই ধরে এল।

কিন্তু পুরো দিনটা নষ্ট হয়ে গেল। ভোর থেকে বৃষ্টি দেখে সবাই ধরে নিয়েছিল পুরো ট্রিপটাই ক্যানসেল করতে হবে। ড্রাইভার বীর বাহাদুরও বলেছিল বৃষ্টি না থামলে কালকেও যাওয়া যাবে না। কিন্তু বিকেলের দিকে বৃষ্টিটা ধরায় একটু স্বস্তি এসেছিল। কিন্তু সেটাও বেশিক্ষণ টিকল না। বীর বাহাদুর কিছুক্ষণ আগে এসে খবর দিল রাস্তায় ধস নেমে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে!

সুতপা, অঙ্কিতা, রাজা, বিমান আর আবীর। এই পাঁচজন ইউনিভার্সিটির একটা প্রজেক্টে এসেছে। এখানে তাদের আসার আসল উদ্দেশ্য হল অমিয়ভূষণ সান্যালের সঙ্গে দেখা করা। উনি বিরল প্রজাতির একটা গাছের সন্ধান পেয়েছেন এই পাহাড়ি অঞ্চলে। ব্যাচেলর মানুষ। অধ্যাপনা থেকে অবসর নিয়ে এখন গাছ গাছড়া নিয়েই পড়ে থাকেন। কিছুটা পাগলাটে গোছের মানুষ। প্রকৃতি আর গাছপালা ছাড়া আর কারও সঙ্গেই মেশেন না। এমনকি মোবাইলও ব্যবহার করেন না। এই যুগে দাঁড়িয়েও তাই শুধু চিঠির মাধ্যমে তাদের আসার খবর ওনাকে জানাতে হয়েছে। সেই চিঠি উনি আদৌ পেয়েছেন কিনা সে ব্যাপারেও তারা নিশ্চিত নয়!

বিমান, অঙ্কিতা আর রাজার মত হল এতদূর যখন আসা হয়েইছে তখন শেষ দেখে যাওয়া ভালো। অন্য কোনও উপায় নিশ্চয় বের হয়ে যাবে। আর বাকিদের মত হল অনর্থক সময় নষ্ট করার কোনও মানেই হয় না। বিশেষ করে রাস্তায় ধস নেমে যাওয়ার সব রাস্তাই যখন বন্ধ হয়ে গেছে। এবার মানে মানে কলকাতা ফিরে যাওয়াই ভালো।

রাত্তিরে খাওয়ার টেবিলে বসেও এই নিয়েই আলোচনা হচ্ছিল। বিমান জোর দিয়ে বলে উঠল, ‘এসেছি যখন, তখন অমিয় স্যারের কাছে যাবই। যে কোনও ভাবে!’

আর ঠিক তখনই পাশ থেকে একজন বলে উঠল, ‘আপনারা সত্যিই কি অমিয় স্যারের কাছে যেতে চান?’

প্রশ্নকর্তা মাঝবয়সী একজন লোক। দেখেই বোঝা যাচ্ছে পাহাড়ি অঞ্চলের লোক নয়। সম্ভবত তাদের ও দিককারই লোক। ছোটখাটো চেহারা। বেশভূষা অতি সাধারণ।

আবীর অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি কি ওনাকে চেনেন নাকি!’

‘চিনি। উনি যখন কলকাতায় কিছুদিন ছিলেন, তখন আমিই ওনার দেখাশোনা করতাম। তারপর উনি ভালোবেসে আমাকে এখানে নিয়ে এসে নিজের কাজে রাখেন। আপনারা যদি যেতে চান তাহলে আমি ওনার কাছে আপনাদের নিয়ে যাব।’

প্রস্তাবটা এতই আকস্মিক যে, সবাই মুখ চাওয়াচায়ি করল। তারপর রাজা বলল, আপনি আমাদের নিয়ে যাবেন! কিন্তু রাস্তা তো বন্ধ!’

‘জানি। আপনারা ওনার কাছে যাবার জন্য এতদূর থেকে এসেছেন, তাই কথাটা বললাম।’

‘কিন্তু আপনি কী করে নিয়ে যাবেন?’

‘আমার সঙ্গে যেতে হলে আপনাদের পায়ে হেঁটে যেতে হবে। পাহাড়ের গা বেয়ে শর্টকাট রাস্তা আছে। তবে রাস্তা অনেক কম পড়বে।’

এই বৃষ্টিতে পায়ে হেঁটে! জীবনে তাদের কারওর হাঁটার অভ্যেস নেই। একমাত্র বিমান কলেজ লাইফ পর্যন্ত ব্যায়াম, জগিং টগিং করত। তাই সেই একমাত্র উৎসাহ নিয়ে বলে উঠল, ‘আমি রাজি। পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটার ইচ্ছে আমার বহুদিনের।’

সুতপা বলল, ‘পাগল হয়ে গেছিস! একেই হাঁটার অভ্যেস নেই, তার ওপর রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে আছে।’

রাজা তাদের সমর্থন জানিয়ে বলল, ‘ব্যাপারটা কিন্তু খুবই রিস্কি হয়ে যাবে।’

বিমান বলল, ‘রিস্ক তো গাড়িতে গেলেও আছে। একবার ভেবে দেখ, এরকম অভিজ্ঞতা কি জীবনে আর আসবে? তাছাড়া হেঁটে গেলে রাস্তায় আরও কত নতুন নতুন গাছপালা, ফুল, অর্কিড দেখতে পাব। গাড়িতে গেলে ওগুলো চোখ এড়িয়ে যায়।’

তার এই শেষ কথাটায় রাজা আর আবীর উৎসাহ পেল। সুতপা আর অঙ্কিতাকে নিমরাজি হতে হল।

‘তাহলে ঠিক ছ’টার সময় রেডি হয়ে থাকবেন। যত তাড়াতাড়ি বেরুনো যায় ততই ভালো।’

লোকটা চলে যাবার পর সবাই মিলে হোম স্টের মালিকের সঙ্গে দেখা করল। ভদ্রলোক বললেন লোকটাকে তিনি চেনেন না। আজই প্রথম দেখছেন। বোধহয় আশে পাশেই কোথাও এসেছে। তবে এখানে এরকম অনেক লোক পাওয়া যায় যারা কিছু টাকার বিনিময়ে গাইডের কাজ করে দেয়। তবে হ্যাঁ, একটা রাস্তা সত্যিই আছে। একটু কষ্ট হলেও যাওয়া যাবে।

দুই

সাড়ে ছ’টায় যাত্রা শুরু হয়েছে। মাঝে একবার একবার একটা গ্রামে চা খাওয়ার জন্য থামা হয়েছিল। তখনই লোকটা বলেছিল এরপর আর বহুদূর পর্যন্ত আর কোনও গ্রাম নেই। বাস্তবিকই তাই। এখন আর কোনও গ্রাম চোখে পড়ছে না। চারদিকে শুধু সবুজ পাহাড় আর পাহাড়। মাঝে মাঝে এত গভীর জঙ্গল যে মনে হচ্ছে এখুনি বোধহয় কোনও বন্য জন্তু বেরিয়ে আসবে!

তবে রাস্তাটা এখন খুব একটা খাড়াই নয়। এটা একটা সুবিধা তাদের পক্ষে।

সবাই বেশ উৎফুল্ল হয়েই হাঁটছে। এই অ্যাডভেঞ্চারটুকু যেন তাদের বাড়তি পাওনা। এমনকি সুতপা আর অঙ্কিতা যারা গতকাল বেঁকে বসেছিল তারাও এখন মনে মনে একটা রোমাঞ্চ অনুভব করছে। রাজা তো গুনগুন করে কয়েক লাইন গানই গেয়ে ফেলল!

কিছুক্ষণ পরেই খাড়াই রাস্তা শুরু হল। এইবার একটু একটু করে কষ্ট হতে শুরু হল সকলের। অনেকক্ষণ ধরে কেও কোনও কথা বলেনি। খাড়াই রাস্তাটা ধরে কিছুটা এগোবার পর অঙ্কিতা হাঁফাতে হাঁফাতে বলে উঠল, ‘আর পারছি না!’

সুতপা সায় দিয়ে বলল, ‘আমিও আর পারছি না। আর কতদূর দাদা?’

লোকটা সকলের আগে আগে যাচ্ছিল। তার পেছনে লাইন দিয়ে বাকি সকলে। সুতপা ছিল সব শেষে। তবু তার কথা শুনতে পেয়ে ও বলল, ‘আর একটুখানি ম্যাডাম।’

যতবার তারা এই কথাটা জিজ্ঞেস করেছে, ততবারই ও ঐ একই উত্তর দিয়েছে। তাই তার কথার কেও গুরুত্ব দিল না। বিমান প্রথম দিকে তার সঙ্গে আলাপ জমাবার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সফল হয়নি। এমনকি ওর নাম পর্যন্ত জানতে পারেনি। লোকটা কেমন অদ্ভুত প্রকৃতির। কোনও প্রশ্নেরই ঠিকঠাক উত্তর দিচ্ছে না। স্যার এখন কোথায় আছেন, বাড়িতে, না অন্য কোথাও সেটাও স্পষ্ট করে বলেনি। সবসময় কী যেন গভীর ভাবে ভেবে চলেছে। এইজন্য আর ওকে ঘাঁটাবার সাহস পায়নি কেও।

কাল মাঝরাতেও বৃষ্টি হয়েছিল। আজ সকালে বেরুবার আগেও দু’এক ফোঁটা পড়ছিল। এখন আর বৃষ্টি হচ্ছে না। তবে অনেকক্ষণ ধরে মাথার ওপর একটা মেঘ খেলা করছে। দু’পাশেও মেঘ জমা হচ্ছে। সরু পথ। নামেই পথ। ছোট ছোট পাথরে ভর্তি। গতকালের বৃষ্টিতে বেশ পিচ্ছিল হয়ে আছে। জায়গায় জায়গায় আবার পাহাড়ের গা বেয়ে নামা কোনও পাহাড়ি ঝোরার জল রাস্তার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। ডানদিকে খাড়া পাহাড়। আর বাঁদিকে বিশাল খাদ। সেদিকে তাকালে সুতপার হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে! কিছুক্ষণ পর সে আর থাকতে না পেরে বলে উঠল, ‘আমার কিন্তু এবার বেশ ভয় করছে। বাঁদিকটা দেখ! একবার পা স্লিপ করলে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না!’

বিমান বলল, ‘দূর! ওতো গাড়িতে এলেও চাকা স্লিপ করতে পারে।’

সুতপা বুঝল ওর সঙ্গে তর্ক করা বৃথা। কেন যে মরতে ওর কথায় তখন সায় দিয়েছিল! একে ভয়, তার ওপর প্রচন্ড শারীরিক কষ্ট। যেন দম আটকে আসছে। আর খাড়াই রাস্তাটা যেন শেষও হচ্ছে না! লোকটাকে তার প্রথম থেকেই সন্দেহ হচ্ছিল। ভুলিয়ে ভালিয়ে তাদের অন্য কোথাও নিয়ে যাচ্ছে নাতো? কী মতলব কে জানে?

কিছুক্ষণ পর বাঁদিকে একটু প্রশস্ত জায়গা পাওয়া গেল। সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ে লোকটা হঠাৎ বলে উঠল, ‘এসে গেছি।’

‘এসে গেছি মানে! এখানে তো কোনও বাড়িঘরই দেখছি না!’ অবাক হয়ে রাজা প্রশ্ন করল।

‘আপনারা এবার সত্যি সত্যি স্যারের কাছে পৌঁছে যাবেন। শুধু আর একটু বাকি আছে। ঐ দেখুন!’

জায়গাটা সামান্য প্রশস্ত বলে সবাই এক জায়গায় পাশাপাশি দাঁড়াতে পেরেছে। লোকটার কথার মানে বুঝতে না পেরে সবাই শুধু ও যেদিকে নির্দেশ করছে সেদিকে তাকিয়ে দেখল। কিন্তু গভীর খাদ আর জঙ্গল ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ল না।

‘আপনাদের স্যার ওখানেই আছেন। যাবেন না?’

‘যাব তো। কিন্তু ওখানে নামব কী করে?’

‘সে চিন্তা আপনাদের করতে হবে না। আমি তার ব্যবস্থা করে দেব।’

‘কিন্তু স্যার ওখানে নামলেন কী করে? আর উনি ওখানে করছেনই বা কী?’

নিস্পৃহ ভঙ্গিতে লোকটা উত্তর দিল, ‘আপনাদের স্যার ওখানে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন। অবশ্য কয়েকটা হাড়গোড় ছাড়া আর কিছুই প্রায় শরীরের অবশিষ্ট নেই। এক সপ্তাহ আগে ঠিক এখানেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তারপর একটা গাছ দেখার জন্য একটু বেশিই ঝুঁকে পড়েছিলেন। আমি বারণ করেছিলাম। কিন্তু শুনলেন না। তারপরে টাল সামলাতে না পেরে … বিশ্বাস করুন, আমি ওনাকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু…’

বিস্ময়ে সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল। অনেকক্ষণ ধরে কেও কোনও কথা বলতে পারল না। তারপর নীরবতা ভেঙে রাজা বলল, ‘স্যার যদি মারাই গিয়ে থাকেন, তাহলে আপনি শুধু শুধু আমাদের নিয়ে এলেন কেন?’

‘আপনারাই তো স্যারের কাছে যেতে চেয়েছিলেন। শুধু এক দুনিয়া থেকে আর এক দুনিয়ায় যেতে হবে। তবে চিন্তা করবেন না। শুধু ছোট্ট একটা ধাক্কা দেব। নিমেষে পৌঁছে যাবেন ওনার কাছে। কোনও কষ্ট হবে না। বুঝতেই পারবেন না কখন ওনার দুনিয়ায় পৌঁছে গেছেন!’

ভয়ে সুতপা আর অঙ্কিতার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। চিৎকার করতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু পারছে না।

বিমান বলে উঠল, ‘আপনি পাগল নাকি?’

‘পাগল কেন হতে যাব? উনি আমাকে খুব ভালোবাসতেন। তাই ওনার জন্য আমি সবকিছু করতে পারি। উনি আসলে সারা জীবন খুব নিঃসঙ্গ ছিলেন। শেষদিকে মানুষের একটু সঙ্গ পাওয়ার জন ব্যাকুল হয়ে উঠতেন। তাই আপনাদেরকে পেলে ওনার আত্মা শান্তি পাবে। এবার রেডি হয়ে নিন।’

লোকটা এবার আবীরকে ঠেলে ফেলে দেবার জন্য এগিয়ে এল। আর তাই দেখে বিমান ঝাঁপিয়ে পড়ল ওর ওপর। আর তখনই একরাশ মেঘ এসে ডেকে দিল চারদিক। সঙ্গ মুষলধারায় শুরু হল বৃষ্টি। সুতপার চোখের সামনে সব অদৃশ্য হয়ে গেল। শুধু কিছুক্ষণ ঝটাপটি শুনতে পেল সে। তারপর একসময় সব শান্ত হয়ে গেল।

কিছুক্ষণ পরেই বৃষ্টি থেমে গেল। সবকিছু আবার দৃশ্যমান হতে লাগল। দেখা গেল বিমান প্রায় খাদের কিনারায় পড়ে রয়েছে। আর সবাই যে যেখানে ছিল সেখানেই আছে। শুধু লোকটা নেই!

অঙ্কিতা চিৎকার করে উঠল, ‘বিমান তুই ঠিক আছিস তো? লোকটা কোথায় গেল? তুই ওকে খাদে ফেলে দিসনি তো?’

আস্তে আস্তে বিমান উঠে বসল। তারপর হাঁফাতে হাঁফাতে বলল, ‘না। আমি ওকে ধাক্কা দিয়েছিলাম ঠিকই। কিন্তু পাহাড়ের দিকে। খাদের দিকে নয়। তাছাড়া পড়ে গেলে নিশ্চয় চিৎকার করে উঠত।’

‘তাহলে ও গেল কোথায়?’

বৃষ্টিতে সবাই ভিজে চুপসে গেছে। সে অবস্থাতেই সবাই এদিক ওদিক ওকে খুঁজল। কিন্তু ওর কোনও চিহ্নই পাওয়া গেল না। তারপর অন্যমনস্ক ভাবে সবাই আবার খাদের ধারে এসে দাঁড়াল। রাজা বলে উঠল, ‘লোকটা আচ্ছা পাগল তো!’

খাদের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বিমান বলল, ‘সত্যিই কি ও পাগল ছিল? নাকি অন্য কিছু!’

‘অন্য কিছু মানে!’

‘কোনও পাগল কখনও এত প্ল্যান খাটাতে পারে না। তাছাড়া এইভাবে হঠাৎ করে অদৃশ্যও হয়ে যেতে পারে না। আছা, ও বলছিল না, স্যারকে বাঁচাবার জন্য ও আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল? স্যারকে বাঁচাতে গিয়ে ও নিজেও সেদিন পড়ে যায়নি তো খাদে?’

‘তাই যদি হয় তাহলে তো ওর বাঁচার কথা নয়। তাহলে এতক্ষণ ধরে কে আমাদের সঙ্গে ছিল?’

‘জানি না। শুধু এটুকু জানি কোনও মানুষ এরকম করতে পারে না।’

বিমানের কথায় সকলের হাত পা কেমন শিরশির করে উঠল। হঠাৎ একটা ঠান্ডা হাওয়া এসে সবাইকে কাঁপিয়ে দিয়ে গেল। সবাই একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল খাদের দিকে। খাদের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা এক অসীম শূন্যতা আস্তে আস্তে গ্রাস করতে লাগল সবাইকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *