উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস

(১৩ জুন, ১৮৬৫- ২৮ জানুয়ারি, ১৯৩৯)

আইরিশ কবি উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস বিংশ শতাব্দীর একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। আইরিশ সাহিত্যের পুনজাগরনে তাঁর ভুমিকা ছিল অগ্রগণ্য। আইরিশ ও ব্রিটিশ উভয় সাহিত্যের এই প্রবাদ পুরুষ ১৯২৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। বলা হয়ে থাকে তাঁর শ্রেষ্ঠ কাজগুলো লেখা হয়েছিলো এর পর।

অনুবাদ করেছেন খুরশিদ আলম মণ্ডল

বাইজানটিয়ামের পথে

বার্ধক্যের দেশ সেথা নয়। যেখানে তারুন্য ব্যাপৃত বাহুডোরে

গাছের পাখীরা- যতসব মৃতের প্রজন্ম মুগ্ধ কাকলিতে,

ঝাঁপিয়ে পড়া শ্যলমন, ম্যাকরেলে ভরা সাগর-

এসব কিছু মিলে – মনু, মীন, পক্ষীরা সাজে

দীর্ঘ মোচ্ছবের আহ্বানে

যা ছিল বিস্মিত-জনম ও মরণের মাঝে।

এভাবে একদিন যৌবনের মনোহর সঙ্গীতে মশগুল হয়ে

কবে কোন দিন ভুলে গেছে তারা- অক্ষয় স্মৃতির স্তম্ভকে।

যদি সে বৃদ্ধ হয়ে যায়- তবে সে তুচ্ছ ছাড়া কিবা

যেন লাঠির ওপরে শতচ্ছিন্য এক টুকরো কাপড়।

যদি না ক্বচিৎ তার আত্মাখানি গেয়ে ওঠে জীবনের গান

প্রতিটি ছিন্নতা স্মরন করে।

তবু সে তো নয় সঙ্গীত পাঠশালা

এ পাঠ ভরা- মহত্ত্বের মৃন্ময় স্মারক সম্ভারে।

তাই সাড়া দিয়ে যাই আমি সমুদ্রের ডাকে

পৌঁছাতে পারে যদি বাইজানটিয়ামের বুকে।

সাধু-সন্তরা যত- ঐশ্বরিক হোমাগ্নিতে রত

এ যেন দেওয়ালের গায়ে সোনালি মর্মরে অঙ্কিত।

রেখে এস ও আগুন- রাখ পা ঘূর্ণন বলয়ে

হোক রূপান্তর তোমার- আমার আত্মার সৃজনে দেবতার।

বিশোধিত কর এ হৃদয়- অবসৃত আকাঙ্ক্ষায়,

আবদ্ধ জরায়- জানেনি, যে কে।

উদ্ধার হোক তার-

অমর সৃষ্টির সংস্পর্শে।

মৃত্যু যদি ডাকে একটিবার- পাব না

ফিরে এ দেহ কোনদিনও আর। তবু তো দেহাকার-

কারো কারো- মনে হয়- ফিরে পায়- স্থবিরের মাঝে

সপন্থন- ক্বচিৎ কোনো, গ্রীসসীয় স্যাকরার ছোঁয়ায়।

এমন তো সেখানেও ঘটে – বাইজানটিয় নর-রমণীর

সোনালী শাখার সঙ্গীতে।

এ ভাবে বয়ে নিয়ে চলে- যা কিছু একদিন ছিল,

এখনো আছে আর আসবে আগামীতে।

শেয়ার করুন

2 thoughts on “উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাহিত্যিক বিভাস রায়চৌধুরীর সাক্ষাৎকার

X